যজ্ঞবেদি, যজ্ঞকুণ্ড ও যজ্ঞশালার সজ্জা-প্রস্তুতি সম্পর্কে নির্দেশনা
0সত্যান্বেষীJune 26, 2026
যজ্ঞবেদি, যজ্ঞকুণ্ড ও যজ্ঞশালার সজ্জা-প্রস্তুতি সম্পর্কে নির্দেশনা
যজ্ঞদেশ:
যেখানে মাটি ও বায়ু শুদ্ধ হবে, কোনো প্রকার উপদ্রব থাকবে না, সেই পবিত্র স্থানই হবে যজ্ঞদেশ।
যজ্ঞশালা:
একে
যজ্ঞমণ্ডপও বলা হয়। এটি সর্বোচ্চ ১৬ (ষোলো) হাত এবং সর্বনিম্ন ৮ (আট) হাত
সমচতুর্ভুজ ও সমচতুষ্কোণ হবে। যদি জমি অশুদ্ধ থাকে, তবে যজ্ঞশালার মাটি এবং
যজ্ঞকুণ্ড যতটা গভীর করা হবে, ততটা মাটি দুই হাত খুঁড়ে অশুদ্ধ মাটি বের
করে তাতে শুদ্ধ মাটি দিয়ে পূর্ণ করবে। যদি যজ্ঞমণ্ডপ ১৬ (ষোলো) হাত
সমচতুষ্কোণ হয়, তবে চারদিকে বিশটি খুঁটি এবং আট হাত হলে, বারোটি খুঁটি
পুঁতে তাদের ওপরে ছায়া করবে। সেই ছায়ার ছাদ যজ্ঞকুণ্ডের মেখলা থেকে অবশ্যই
দশ হাত উঁচু হবে। যজ্ঞশালার চারদিকে চারটি দরজা রাখবে এবং চারদিকে ধ্বজা,
পতাকা ও পল্লব প্রভৃতি বাঁধবে। যজ্ঞশালা প্রতিদিন পরিষ্কার করবে এবং গোবর
দিয়ে লেপন করবে। একে কুঙ্কুম, হলুদ ও ময়দার রেখা দ্বারা উত্তমরূপে ভূষিত
করবে। মানুষ সব মাঙ্গলিক কার্যে নিজের ও অন্যের কল্যাণের জন্য যজ্ঞ দ্বারা
ঈশ্বরোপাসনা করবে।
যজ্ঞ সমিধা
পলাশ,
শমী, অশ্বত্থ, বট, যজ্ঞডুমুর, আম ও বেল প্রভৃতি কাঠ যজ্ঞকুণ্ডের পরিমাণ
মতো ছোট বড় করে নেবে। তবে এই সব সমিধা যেন পোকা-খাওয়া, নোংরা জায়গায়
জন্মানো এবং অপবিত্র পদার্থ প্রভৃতি দ্বারা দূষিত না হয়—উত্তমরূপে দেখে
নেবে এবং সমিধাগুলোকে কুণ্ডের চারদিকে ও মধ্যভাগে পরিমাণ মতো সমান করে
চারদিকে সাজাবে।
প্রশ্ন:
যজ্ঞ করার জন্য জমি খুঁড়ে বেদি তৈরি, প্রণীতা, প্রোক্ষণী ও চমস প্রভৃতি
পাত্রের স্থাপন, যজ্ঞশালা নির্মাণ ও ঋত্বিজকে নিযুক্ত ইত্যাদি রূপ কাজ করা
কি একান্ত আবশ্যক?
উত্তর:
হ্যাঁ করা উচিত। যেহেতু যা কিছু যুক্তিসিদ্ধ, তা সমস্তই সম্পাদন করা অবশ্য
কর্তব্য। যজ্ঞে বেদি তৈরি করে তাতে হোম করলে সেই আহুত দ্রব্য শীঘ্রই আলাদা
আলাদা অর্থাৎ পরমাণুরূপ হয়ে, বায়ু ও অগ্নির সাথে আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। সেই
জন্য বেদি থাকলে অগ্নির তেজ বৃদ্ধি পায় এবং হোম করার সামগ্রী, বেদির
চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে না, এই কারণে বেদি তৈরি করা অবশ্য কর্তব্য। আর
বেদি ত্রিকোণ, চতুষ্কোণ, গোল এবং শ্যেন (বাজ) পাখি প্রভৃতির মতো তৈরি করার
দৃষ্টান্ত থেকে রেখাগণিত বিদ্যা সম্পর্কে জানা যায়। এর দ্বারা মানুষের
ত্রিভুজ প্রভৃতি রেখা সকলেরও যথাযথ বোধ হয়ে থাকে। আর তাতে যে ইটের সংখ্যা
করা হয়, তার দ্বারা বিদ্যারও এই প্রকারে বোধ হয়ে থাকে যে, এই রকম লম্বা
চওড়া ও গভীর বেদি তৈরি করার অনেক প্রয়োজন আছে। সেই রকম সোনা, রূপো বা কাঠের
পাত্রের এই জন্য আবশ্যক হয় যে, তাতে ঘি প্রভৃতি পদার্থ রাখলে তা নষ্ট হয়
না। কুশ রাখার কারণ এই যে, এর দ্বারা যজ্ঞশালার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা হয়ে
থাকে এবং আরশোলা প্রভৃতি কোনো জীব বেদির ভেতরের অগ্নিতে যেতে পারে না। আবার
এই যজ্ঞশালা নির্মাণ করার অন্য প্রয়োজন এই যে, যাতে প্রজ্জ্বলিত অগ্নিতে
অত্যন্ত বাতাস না লাগে, এবং বেদিতে কোনো পাখি কিংবা তার বিষ্ঠা প্রভৃতি
পড়তে না পারে। এই প্রকারে ঋত্বিজ ছাড়া যজ্ঞকর্ম অপরের দ্বারা কখনোই সম্পন্ন
হতে পারে না। এই রকম ও অন্যান্য প্রয়োজন সাধনের জন্য, এই সব বিধান
যজ্ঞকার্যে অবশ্য কর্তব্য। এ ছাড়া দ্রব্যের শুদ্ধি ও সংস্কার প্রভৃতিও
অবশ্যই করতে হবে। তবে কোনো বিশেষ প্রণীতা পাত্র রাখলে পুণ্য হয় ও অন্য
প্রকারে পাপ হয়ে থাকে, ইত্যাদি প্রকার বিধি বা বাক্য সকল, কেবল কল্পনামাত্র
জানবেন। কিন্তু যে প্রকারে কাজ করলে যজ্ঞকার্য সুচারুরূপে সম্পন্ন হয়, তা
করা অবশ্য কর্তব্য; অন্যথা নয়।