সাধারণ শিষ্টাচার বিনিময়ের পর গভর্নর জেনারেল স্বামীজিকে জিজ্ঞাসা করলেন,
গভর্নর জেনারেল: পণ্ডিত দয়ানন্দ! আমি শুনেছি, আপনি অন্যান্য মতবাদ ও ধর্মের কঠোর সমালোচনা করেন। এর ফলে তাদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং আপনার বিরুদ্ধে ভয়ংকর মনোভাব তৈরি হয়, বিশেষত মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে। আপনি কি আপনার শত্রুদের কাছ থেকে কোনো ধরনের বিপদের আশঙ্কা করেন? অর্থাৎ, আপনি কি সরকারের কাছে নিজের নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা চান?
স্বামী দয়ানন্দ: নিজের মতবাদ প্রচারের জন্য ইংরেজ রাজ্যে আমি সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছি। ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো প্রকার বিপদের আশঙ্কা নেই।
গভর্নর জেনারেল: যদি তাই হয়, তাহলে আপনি কি নিজের দেশে ইংরেজ শাসনের দ্বারা প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধাগুলিরও বর্ণনা করবেন? আর আপনার বক্তৃতার শুরুতে যে ঈশ্বরের প্রার্থনা করেন, তাতে কি দেশের ওপর অখণ্ড ইংরেজ শাসন বজায় রাখার জন্যও প্রার্থনা করবেন?
স্বামী দয়ানন্দ: এমন কোনো কথা মেনে নিতে আমি অসমর্থ। কারণ আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমার দেশবাসীর অবাধ রাজনৈতিক উন্নতি এবং বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের সমান মর্যাদা লাভের জন্য শীঘ্রই পূর্ণ স্বাধীনতা পাওয়া উচিত। মহাশয়! আমি পরমেশ্বরের কাছে সর্বদা সকাল-সন্ধ্যা এই প্রার্থনাই করি, যেন তাঁর অসীম কৃপায় এই দেশের মানুষ বিদেশিদের দাসত্ব থেকে মুক্তি লাভ করে।
মহর্ষি দয়ানন্দের রাজনৈতিক চিন্তাধারার এই প্রকাশে ভাইসরয় ঘাবড়ে গেলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে কথোপকথন বন্ধ করে দিলেন।
লর্ড নর্থব্রুক তাঁর সাপ্তাহিক ডায়েরিতে এই ঘটনাটি লিখেছিলেন। তিনি লন্ডনের ইন্ডিয়া অফিসে ইংল্যান্ডের সেক্রেটারি অফ স্টেটকে লিখেছিলেন যে, এই বিষয়ে বিদ্রোহী সন্ন্যাসীটির ওপর কঠোর নজরদারি রাখার জন্য তিনি গুপ্তচর নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন।
বাংলাদেশ অগ্নিবীর
সত্য প্রকাশে নির্ভীক সৈনিক
