✅ ঋষি-বোধোৎসব কীভাবে পালন করবে ❓
▪️(শিবরাত্রি ঋষিবোধোৎসব উপলক্ষে বিশেষভাবে প্রকাশিত)
🎙️ অমর হুতাত্মা স্বামী শ্রদ্ধানন্দ মহারাজ
🔰 হে আর্যগণ!
২৭তম বারের মতো আবারও কি কেবল বক্তৃতা শুনবে এবং শেষে চার আনা ভোগ দিয়েই তোমার দায়িত্ব শেষ করবে? ঋষি তোমাদের যে সরল পথ দেখিয়েছিলেন, সেই পথে চলার সুযোগ তোমাদের জীবনে কখনো আসবে কি না?
▪️ঋষি দয়ানন্দ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ব্রহ্মচারী থেকে তা (আদর্শ) করে দেখিয়েছেন। তোমাদের কি ব্রহ্মচর্য পালনের বোধ বা চেতনা জাগ্রত হয়েছে? যদি শিক্ষার্থী ও অবিবাহিত হও, তবে কি বীর্য সংযম করে পবিত্র বেদ অধ্যয়ন করছ? যদি গৃহস্থ হও, তবে কি কেবল ঋতুগামী হওয়ার দাবি করতে পারো, নাকি প্রামাণিক ব্যভিচারেই লিপ্ত আছ? যদি শিক্ষক হও, তবে নিজে অব্রহ্মচারী থেকে ব্রহ্মচারীদের পথপ্রদর্শক সেজে বসে নেই তো?
🔹প্রকৃতি পূজার অনৌচিত্য বুঝতে পেরে ঋষি দয়ানন্দ তা খণ্ডন করেছিলেন এবং ঈশ্বর উপাসনার সমর্থন করেছিলেন। পরমাত্মাতে নিমগ্ন হয়ে তিনি এই সংসার ত্যাগ করেছিলেন। তোমরা কি নিয়ম মেনে দুই বেলা প্রেমের সাথে 'সন্ধ্যা' (উপাসনা) করো, নাকি কেবল অন্যের মত খণ্ডন করেই কর্তব্যের ইতি টানছ?
📍তোমাদের সন্ধ্যা কি কেবল তোতাপাখির মতো আওড়ানো, নাকি সেই সময় নেওয়া প্রতিজ্ঞাগুলো জীবনে পালন করতে শুরু করেছ?
⚠️ সর্বদা কেবল কঠোর খণ্ডনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে কি ধর্মের শত্রু বানিয়ে রাখবে, নাকি উপাসনার দ্বারা পবিত্র হয়ে পতিতের হাত ধরে তাকে ধর্মের দিকে টেনে তুলতে সফল হবে?
▫️তোমাদের ধর্মভাব এবং সিদ্ধান্ত-প্রেম কি কেবল অন্যের দুর্বলতা জগতসমক্ষে প্রচার করতেই ব্যয় হবে, নাকি কখনো নিজেদের সদাচারকে উন্নত করে দুর্বলদের উপরে তোলার চেষ্টাও করবে?
🔸ঋষি যোগাভ্যাসের দ্বারা অলঙ্কৃত হয়ে বেদের মর্মার্থ বুঝিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর বিনয়ভাব এমন ছিল যে নিজের ভুল সংশোধনের জন্য তিনি সর্বদা প্রস্তুত থাকতেন। তোমরা কি 'সিদ্ধান্তবাদী' হওয়ার অভিমান ত্যাগ করে কখনো অন্যের কথা শোনার জন্য তৈরি হবে?
▪️মেনে নিলাম যে তুমি তোমার অপূর্ব তর্কশক্তি দিয়ে সবকিছু প্রমাণ করতে পারো; কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছ যে ঋষির গ্রন্থ থেকে ভাব চুরি করে তুমি তর্কের যে প্রাসাদ গড়েছ, সেই ঋষি কেবল 'শুষ্ক তর্ক'কে তাঁর কার্যক্রমে কতটা স্থান দিয়েছিলেন?
☑️ হে আর্য সন্তান! এসো! আজ থেকে আবারও নিজের জীবনের ওপর গভীর দৃষ্টি দাও এবং বুঝে নাও— যে সত্য প্রাপ্তির জন্য মূলশঙ্করের (দয়ানন্দ) হৃদয়ে এই রাত্রিতে উৎকট ইচ্ছা জেগেছিল, তার সন্ধানে তিনি শারীরিক কষ্টের কোনো পরোয়া করেননি। জঙ্গল, জনমানবহীন পাহাড় আর ময়দান— সব জায়গায় ধুলো মেখেছেন এবং বিনয়ের সাথে জনে জনে সেই সত্যের খোঁজ করেছেন; পরিশেষে সেই সত্য-স্বরূপ পরমেশ্বরেই বিলীন হয়ে গেছেন।
↗️ চারটি আশ্রমে ব্রহ্মচর্য পালন করে, গুণ-কর্মানুসারে বর্ণব্যবস্থা স্থাপন করে এবং উপাসনার মাধ্যমে হৃদয়কে সত্যান্বেষী ও প্রাণিমাত্রের জন্য কল্যাণকামী করে তোলার মাধ্যমে যে আর্য পুরুষ আজ কল্যাণের পথে চলার শুভ সংকল্প গ্রহণ করবেন, আমি তাঁর কাছে ঋণী থাকব।
শমিত্যো৩ম্ (শম ইতি ও৩ম্)
[ঋষি বোধোৎসব উপলক্ষে অমর হুতাত্মা স্বামী শ্রদ্ধানন্দ মহারাজের এই অনুপ্রেরণামূলক নিবন্ধটি লাহোর থেকে প্রকাশিত 'আর্য' পত্রিকার ১৯২৬ সালের সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। আজও এই নিবন্ধের প্রতিটি শব্দ ঋষি দয়ানন্দের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর থেকে প্রেরণা লাভের বার্তা দিচ্ছে।]
© বাংলাদেশ অগ্নিবীর
