মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী ও বিধবাবিবাহ

 

✅ মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী ও বিধবাবিবাহ

বেদের ন্যায়নীতি ও মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীর স্পষ্ট মত অনুযায়ী বিধবা স্ত্রী ও বিপত্নীক পুরুষের পুনর্বিবাহ ধর্মসঙ্গত ও মানবিকভাবে সমর্থনযোগ্য; বিধবা নারীর পুনর্বিবাহ হওয়া উচিত এবং নারী-পুরুষ উভয়েরই এই অধিকার সমান হওয়া আবশ্যক, কারণ ঈশ্বর ন্যায়কারী ও পক্ষপাতবিহীন। তবে নিজের স্ত্রী জীবিত থাকতে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিবাহ দোষজনক এবং অনুমোদিত নয়; কিন্তু স্ত্রীর মৃত্যুর পরে পুরুষ যেমন পুনর্বিবাহ করবে কি না—সে বিষয়ে স্বাধীন, তেমনি বিধবা নারীরও একই স্বাধীন অধিকার থাকা উচিত (মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীর জীবনচরিত, পণ্ডিত লেখরাম, পৃ. ২৮৭–৮৮)। পুনা প্রবচনের দ্বাদশ দিবসে মহর্ষি স্পষ্ট বলেছেন যে বিধবাবিবাহের বিরোধিতা তিনি সমর্থন করেন না এবং পুরুষকে পুনর্বিবাহের অনুমতি দিলে নারীকে তা থেকে বঞ্চিত করার কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই (উপদেশমঞ্জরী, দ্বাদশ দিবস)। একইভাবে কেশবচন্দ্র সেনের সভায় মহর্ষি দয়ানন্দ প্রকাশ্যে বিধবাবিবাহের সমর্থন করেন এবং বাল্যবিবাহের বিরোধিতা করেন (স্বামী দয়ানন্দের জীবনচরিত ও তাঁর শিক্ষা, হরবিলাস শারদা)।

➡️ প্রশ্নঃ বেদের দৃষ্টিকোণে বলুন বিধবা স্ত্রী ও বিপত্নীক পুরুষের পুনর্বিবাহ হওয়া উচিত নাকি অনুচিত ? স্বীয় স্ত্রী জীবিত থাকতে বা মৃত্যুর পরে ২য় বা ৩য় বিবাহ দোষজনক কি না ?
মহর্ষি দয়ানন্দের উত্তরঃ বিধবা স্ত্রীর পুনর্বিবাহ হওয়া উচিত এবং নিজের স্ত্রী জীবিত থাকতে দ্বিতীয় বিবাহ করা যাবে না । কিন্তু স্ত্রীর মৃত্যুর পর অধিকার রয়েছে সে পুনর্বিবাহ করবে নাকি করবে না । এমন অধিকার বিধবা স্ত্রীরও হওয়া উচিত ।
- মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীর জীবনচরিত [পণ্ডিত লেখরাম] - পৃষ্ঠা ২৮৭-৮৮
 
 


✅পুনা প্রবচনের ১২তম দিনে মহর্ষি বিধবাবিবাহ খণ্ডনে অনিচ্ছুক বলেছেন -
"বিধবা বিবাহের যারা বিরোধী তাদের পক্ষ সমর্থন করে বিধবাবিবাহের খণ্ডনের আমার ইচ্ছা নেই। তবে এটা অবশ্যই বলবো যে ঈশ্বরের নিকট নারী-পুরুষ উভয়েই সমান। কেননা তিনি ন্যায়কারী ও পক্ষপাতবিহীন। যখন পুরুষকে পুনর্বিবাহের আজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে তবে নারীকে দ্বিতীয় বিবাহে কেন আটকানো হবে ?"
▪️ উপদেশমঞ্জরী, দ্বাদশ দিবসের প্রবচন
 

✅মহর্ষি দয়ানন্দের বিধবা-বিবাহ সমর্থন
“একদিন কেশবচন্দ্র সেন একটি সভার আয়োজন করেন যেখানে স্বামীজি নিজের বিশ্বাসের উপর আলোকপাত করেন। তিনি মূর্তিপূজা, অদ্বৈত, বর্তমান জাতিব্যবস্থার খণ্ডন করেন এবং বিধবাবিবাহের সমর্থন করেন। তিনি বললেন, ১৮ বছরের আগে কন্যাদের বিবাহ করানো উচিত নয়।”
▪️ সূত্র: স্বামী দয়ানন্দের জীবনচরিত এবং তাঁর শিক্ষা, রচনা: হরবিলাস শারদা (মহর্ষি দয়ানন্দের সাক্ষাৎ শিষ্য)
 
 

অতএব, বেদের আলোকে সিদ্ধান্ত এই যে-
➡️ বিধবাবিবাহ দোষজনক নয়, বরং ধর্মসম্মত।
➡️ স্ত্রী জীবিত থাকতে বহু-বিবাহ অনুচিত।
➡️ স্ত্রীর মৃত্যুর পর পুনর্বিবাহ ঐচ্ছিক অধিকার নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই।
এটাই বেদের ন্যায়, করুণা ও গৃহস্থধর্মের সুস্পষ্ট ও সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা।


© বাংলাদেশ অগ্নিবীর


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.